রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০২:২৭ অপরাহ্ন

মুহাম্মাদ (সা.) এর ৬ আমলই করোনায় নিরাপদ থাকার সহ’জ উপায়

মুহাম্মাদ (সা.) এর ৬ আমলই করোনায় নিরাপদ থাকার সহ’জ উপায়

মুহাম্মাদ (সা.) এর ৬ আমলই করোনায় নিরাপদ থাকার সহ'জ উপায়

কুরআনের নির্দেশনা ও হাদিসের যে আমল মেনে চলায় মহামা’রি করো’নামুক্ত পবিত্র নগরী ম’ক্কা ও ম’দিনা; সেই একই আমলের বাস্তবায়নেই করো’নাসহ যে কোনো মহামা’রির আক্রমণ, সংক্রমণ, ক্ষতি ও জীবনহানি থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা ও আমলগুলো কী’?

মহামা’রি করো’নার এ জটিল পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাআলার ছোট্ট একটি নির্দেশনার বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

‘তোম’রা নিজেরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৯৫)

এ আয়াতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে হাদিসের ৬টি আমলই যথেষ্ট। এ আমলগুলো যারাই যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলেছে; তারাই নিজেদেরকে ধ্বংসের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে পারবে। থাকতে পারবে করো’নামুক্ত। ইনশাআল্লাহ। হারামাইন কর্তৃপক্ষ করো’নার শুরুর ‍দিকে এ নির্দেশনাগুলোই জারি করেছিল। তাহলো-

১. দূরত্ব বজায় রাখা

মহামা’রি করো’নায় নিজেদের নিরাপদ রাখতে যথাযথ সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই। আবার যারা করো’নায় আ’ক্রান্ত; আলাদা ব্যবস্থাপনায় তাদের চিকিৎসা করানোর পাশাপাশি সুস্থদের থেকে দূরে রাখাও জরুরি। সংক্রামণ রোগের ক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনাও এমনই-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘যারা সংক্রমণ রোগে আ’ক্রান্ত তাদের উচিত যারা সুস্থ তাদের থেকে দূরত্বে অবস্থান করা।’ (বুখারি ও মু’সলিম)

২. বাইরে যতায়াত বা ভ্র্রমণ নিষিদ্ধ যে কোনো মহামা’রি ও সংক্রমক ব্যাধিতে আ’ক্রান্ত জনপদের কেউ নিজ নিজ অবস্থান ত্যাগ করতে পারবে না। হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে জো’রালো নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এভাবে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোম’রা যখন কোনো শহর/নগর/অঞ্চলে মহামা’রি প্লেগের বিস্তারের কথা শুনো, তখন সেখানে প্রবেশ করবে না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোম’রা সেখানে অবস্থান কর; তবে তোম’রা সেখান থেকে বেরিয়েও যেও না।’ (বুখারি)

৩. সংকট’কালে ঘরে অবস্থান করা

যে কোনো মহামা’রির সময় ঘরে অবস্থানের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্বনবি। মহামা’রি থেকে বেঁচে থাকতে বাঘের উদাহ’রণ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হ’জরত আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কুষ্ঠ (মহামা’রি) রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।’ (বুখারি)

অর্থাৎ লকডাউন মনে করে হোম কোয়ারেন্টাইন তথা ঘরে অবস্থান করা খুবই জরুরি। আর তাতেই যে কোনো জটিল ও কঠিন মহামা’রি এবং সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুস্থ ও নিরাপদ থাকা সম্ভব।

৪. মহামা’রিতে ঘরে ইবাদত

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কোনো দু’র্যোগ কিংবা মহামা’রিতে ঘরে ইবাদত-বন্দেগির নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশ নিজেদের নিরাপদ রাখতে কুরআনের সেই আয়াতের বাস্তবায়নেরই শামিল। এ কারণেই নামাজ-ইবাদত ঘরে বাস্তবায়ন করে এ নির্দেশ দিয়ে দেখিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি-

হ’জরত নাফি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, প্রচণ্ড এক শীতের রাতে হ’জরত ইবনে ওম’র রাদিয়াল্লাহু আনহু যাজনান নামক স্থানে আজান দিলেন। অ’তঃপর তিনি ঘোষণা করলেন-

jagonews24

صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ

‘সাল্লু ফি রিহালিকুম’ অর্থাৎ তোম’রা আবাস স্থলেই নামাজ আদায় করে নাও।’

পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘লাইহি ওয়া সাল্লাম সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে বললেন এবং সাথে সাথে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোম’রা নিজ বাসস্থলে (ঘরে) নামাজ আদায় কর।’ (বুখারি, মু’সলিম, মু’সনাদে আহম’দ)

অর্থাৎ তীব্র শীত কিংবা বৃষ্টির কারণে নামাজের ওয়াক্তে আজান শুনে তোমাদের ম’সজিদে উপস্থিত হওয়ার দরকার নেই। ঘরেই নামাজ আদায় কর। ঠিক এই করো’নাকলীন সময়ে ঘরে ইবাদত-বন্দেগি করাও কুরআন-সুন্নাহর আমলেরই বাস্তবায়ন।

৫. চিকিৎসা গ্রহণ ও সতর্কতা অবলম্বন

একান্তই যদি কেউ যে কোনো মহামা’রি বা রোগ-ব্যধিতে আ’ক্রান্ত হয় তবে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্বনবি। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক উন্নত মানের চিকিৎসা, পথ্য এবং পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। হাদিসের নির্দেশনা হলো-

হ’জরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা এমন কোনো রোগ পাঠাননি, যার আরোগ্যের ব্যবস্থা তিনি দেননি।’ (বুখারি)

৬. ঘন ঘন সাবান-পানিতে হাত ধোয়া

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওজুর আমলেই বর্তমান মহামা’রি করো’না থেকে নিরাপদ ও মুক্ত থাকা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এ নির্দেশই দিয়েছে। তাহলো- ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ স’ম্পর্কে অনেক উপদেশ, উপমা ও নির্দেশ দিয়েছেন। যার প্রতিটিই সুস্থতা, পবিত্রতা ও নিরাপদ থাকার দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করে। যার দুইটি তুলে ধ’রা হলো-

> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে রোগ-জীবাণু থেকে মুক্ত ও সুস্থ থাকতে খাওয়ার আগে উভ’য় হাত ভালো’ভাবে ধুয়ে নিতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে বলতেন। হাদিসে এসেছে-

হ’জরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো কিছু খাবার বা পান করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি উভ’য় হাত ভালো’ভাবে ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করতেন।’ (নাসাঈ)

> একটি উপমা তুলে

হ’জরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, (তিনি বর্ণনা করেন) তোম’রা বলো : যদি তোমাদের কারো দরজার (বাড়ির) সামনে দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় এবং ওই ব্যক্তি তাতে দৈনিক ৫ বার গোসল করে; তাহলে তার শরীরে কি কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে?

সাহাবাগণ নিবেদন করলেন, ‘কোনো ময়লাই আর অবশিষ্ট থাকবে না।’

রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সুতরাং (দৈনিক) ৫ বার নামাজের দৃষ্টান্ত হলো এই যে, আল্লাহর এর মাধ্যমে গোনাহসমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। (বুখারি ও মু’সলিম)

অর্থাৎ নামাজের আগে ওজুর মাধ্যমে প্রতিটি অঙ্গ যেমন পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হয় তেমনি প্রতিটি অঙ্গের গোনাহও ওজুর পানির সঙ্গে চলে যায়। আর এ ওজুর মাধ্যমেই সুস্থ ও নিরাপদ থাকা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানও মহামা’রি করো’নার প্রাদুর্ভাবে হাদিসের এ ৬টি দিকনির্দেশনা মেনে চলতে জো’র দিয়ে পরাম’র্শ দিয়ে যাচ্ছেন। যারা হাদিসের এ দিকনির্দেশনা যথাযথ মেনে চলবে তাদের তাকদিরে মৃ’ত্যু না থাকলে এ কথা সুনিশ্চিত যে, কোনো ব্যক্তি করো’নায় আ’ক্রান্ত হবে না। আর করো’নায় আ’ক্রান্ত হলেও মৃ’ত্যুর মুখোমুখি হবে না।

একান্তই এ নির্দেশনা মেনে চলার পরও যদি কেউ মহামা’রিতে আ’ক্রান্ত হয়। তা হবে তার জন্য শাহাদাতের মৃ’ত্যু। হাদিসে এসেছে-

‘কোনো বান্দা যদি মহামা’রি আ’ক্রান্ত এলাকায় অবস্থান করে। আর নিজ বাড়িতে ধৈর্য সহকারে সাওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বা’স নিয়ে (ঘরে) অবস্থান করে যে, আল্লাহ তাআলা তাকদিরে যা চূড়ান্ত করে রেখেছেন, তার বাইরে কোনো কিছু তাকে আ’ক্রান্ত করবে না, তাহলে তার জন্য রয়েছে একজন শহীদের সমান সাওয়াব।’ (মু’সনাদে আহম’দ)

হাদিসের এ নির্দেশনাগুলো যথাযথ মেনে চলার কারণেই পবিত্র নগরী ম’ক্কা ও ম’দিনা আজও মহামা’রি করো’না থেকে মুক্ত। সুতরাং মহামা’রি করো’না থেকে নিরাপদ ও সুস্থ থাকতে হাদিসের এ নির্দেশনাগুলো মেনে চলার সর্বাত্মক চেষ্টা করা জরুরি।

করো’নার এ সময়ে রাষ্ট্র ঘোষিত নির্দেশনা মেনে চলা, ঘরে অবস্থান করা, অযথা বাইরে বের না হওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সবার জন্য খুবই জরুরি।

আল্লাহ তাআলা বিশ্বব্যাপী সবাইকে উল্লেখিত হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। করো’নাসহ যাবতীয় মহামা’রি ও রোগ-ব্যধি থেকে নিরাপদ ও হেফাজত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ  পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

https://www.facebook.com/BangaliTimesofficel

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Bangalitimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com