রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে সীমান্তে যুদ্ধবিমানের ঘাঁটি গাড়ছে চীন!

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে সীমান্তে যুদ্ধবিমানের ঘাঁটি গাড়ছে চীন!

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে সীমান্তে যুদ্ধবিমানের ঘাঁটি গাড়ছে চীন!

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে পূর্ব লাদাখের কাছে শিনজিয়ান প্রদেশে যু’দ্ধ’বিমানের ঘাঁটি তৈরি করছে চীন। ভারতের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। বলা হচ্ছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধবিমান নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে আর সমস্যা না হয়, সেটা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ চীনের। খবর এবিপির।

গণমাধ্যমটি বলছেম, কাশগর ও হগান অঞ্চলে চীনের যু’দ্ধ’বিমা’নের ঘাঁটি আছে। এই দু’টি বিমানঘাঁটি থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভারত সীমান্তে যু’দ্ধ’বি’মান নিয়ে আসছে চীনের বিমানবাহিনী। এবার তারা নতুন করে আরও একটি বিমানঘাঁটি তৈরি করছে। এর ফলে চীনের বিমানবাহিনী ভারত সীমান্তে আরও বেশি যু’দ্ধ’বিমান রাখতে পারবে।

লাদাখ অঞ্চলে এতদিন চীনের বা’য়ুসেনার চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল ভারত। কারণ, ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি চীনের তুলনায় লাদাখের অনেক কাছে। কিন্তু এবার সেই দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে চীনের বিমানবাহিনী। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ এয়ার ডি’ফেন্স সিস্টেম নেওয়ার পর লাদাখ অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে চলেছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্র চীনের রশি টানাটানি, দুশ্চিন্তায় সিঙ্গাপুর!

ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো দুই সুপার পাওয়ারের রশি টানাটানির মধ্যে আটকে গেছে দেশটি। অনেকদিন ধরেই সিঙ্গাপুরকে নিজের প্রভাব বলয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে বেইজিং। ফলে সিঙ্গাপুরকে যথেষ্ট চাপেও রেখেছে।

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে রয়েছে যথেষ্ট সতর্ক। তারাও দেশটিকে নিজেদের বলয়ে রাখতে সচেষ্ট। সিঙ্গাপুরে জাতিগত চীনাদের সংখ্যা বেশি। সংগত কারণে সেখানে চীনের প্রতি সমর্থনও বেশি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক যথেষ্ট গভীর। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গত মাসে পিউ রিসার্চ সেন্টার একটি জরিপ করে।

১৭টি অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসরমান দেশের ওপর পরিচালিত ওই সমীক্ষায় চীনের বিষয়ে গড়পড়তা ২৭ ভাগ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। তবে সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। ১৭টি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরেই চীনের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা হয়। বিপরীতে জাপানে এই হার দেখা যায় ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ২১ ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ২২ শতাংশ।

ইতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্ন ছিল চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখার বিষয়ে। ১৭টি দেশের মধ্যে এ ব্যাপারে গড়পড়তা চীনের অনুকূলে মত দেয় ২১ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে ৬৪ শতাংশ। এক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরে চীনের অনুকূলে ছিল ৪৯ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে ৩৩ শতাংশ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে সিঙ্গাপুরের ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা। ১৭টি দেশের মধ্যে এ ব্যাপারে গড়পড়তা হার ছিল খুবই কম, মাত্র ১৭ শতাংশ। স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে, ১৭ অর্থনৈতিক উন্নত দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুরই কেবল চীনের প্রতি সবচেয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। অর্থনৈতিক ইস্যুতে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক ধারণা কিছুটা বেশি।

হালে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সিঙ্গাপুরের ওপর এই দুই মিত্রের একজনকে বেছে নেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছে। পিউ রিসার্চের জরিপের ফল থেকে লক্ষণীয় যে সিঙ্গাপুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে এখানে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স বিবেচনায় রাখতে হবে। বয়স্কদের মধ্যে তরুণদের চীনের প্রতি টান বেশি।

এছাড়া দেশটির জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই জাতিগত চীনা। বাকি এক-তৃতীয়াংশ জাতিগত মালয় ও ভারতীয়। সিঙ্গাপুরের গবেষণা সংস্থা আইএসইএএস-ইউসোফ ইসহাকের চলতি বছরের স্টেট অব সাউথইস্ট এশিয়া সার্ভে রিপোর্টে পিউ রিসার্চের অনেকটা বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ১০টি দেশের শিক্ষাবিদ,

সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন না চীনা নেতৃবৃন্দ বিশ্বশান্তি রক্ষায় যথা সময়ে ঠিক কাজটি করবেন। এটি সিঙ্গাপুরের এলিট শ্রেণির দৃষ্টিভঙ্গি। ১০টি দেশ হিসাবে নিলে গড়পড়তা সংখ্যাটি ৬৩ শতাংশে পৌঁছায়।

সিঙ্গাপুরে সর্ববৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্র। একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সিঙ্গাপুর তাদের মিত্রজোটের বাইরে একটি অংশীদার হলেও তারা মিত্রের চেয়ে কোনও দিক দিয়েই কম নয়। ২০০৪ সালে দুদেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি ছিল এশিয়ায় কোনও দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি। দু’দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএসের নির্বাহী পরিচালক টিম হাক্সেলি তার লিওন সিটি: দ্য আর্মড ফোর্সেস অব সিঙ্গাপুর বইতেও বিষয়টি দেখিয়েছেন। বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সিঙ্গাপুর পরীক্ষার মুখে পড়েছে। দেশটির একজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক বিলাহারি কাউসিকান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে একই সঙ্গে খুশি রাখার কোনও চটজলদি ফর্মুলা সিঙ্গাপুরের হাতে নেই।

বস্তুত সিঙ্গাপুর এই দুইপক্ষের সঙ্গে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে। যেমন ২০১৯ সালে সিঙ্গাপুর ১৯৯০ সালে সম্পাদিত সামরিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়ন করে। এ চুক্তি বলে যুক্তরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের বিমান ও নৌঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারে। বিনিময় সিঙ্গাপুর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা পাবে। এ চুক্তি নবায়নের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুর চীনের সঙ্গেও করা একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নবায়ন করে।

এ চুক্তির আওতায় দুই দেশ সামরিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত মন্ত্রী পর্যায় বৈঠক ও পারস্পরিক সামরিক পরিদর্শনে সম্মত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিঙ্গাপুরকে দুই সুপার পাওয়ারের সঙ্গে যেভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হচ্ছে আসিয়ানের কোনও দেশ এতটা চাপের মধ্যে নেই। যুক্তরাষ্ট্র চায় সিঙ্গাপুর তাদের ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো প্যাসিফিক কৌশল’ সমর্থন করুক।

বলা হচ্ছে, এর লক্ষ্য প্রশান্ত মহাসাগরে অবাধ নৌচলাচল, সমুদ্র নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল থাকা। কিন্তু ওই অঞ্চলে চীনের রাশ টেনে ধরাই যে এর অন্যতম লক্ষ্য সেটা এখন ওপেন-সিক্রেট। এ কারণে সিঙ্গাপুর এখনও এই নীতির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেনি। তাছাড়া দ্বীপ দেশটি ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোবহির্ভূত মিত্র হওয়ার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ  পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

https://www.facebook.com/BangaliTimesofficel

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Bangalitimes.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com